ঢাকা ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চীনের কাছেও হার, বিদায়ের শঙ্কায় বাংলাদেশ নারী দল গণভোট বাতিলের সঙ্গে জুলাই সনদের কোনো সম্পর্ক নেই: আইনমন্ত্রী ইরান ইস্যুতে হোয়াইট হাউস-পেন্টাগন দ্বন্দ্ব, যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন সংকটের আভাস কুষ্টিয়ায় ১৮ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু, হামের উপসর্গে উদ্বেগ বাড়ছে একদিনে দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, হরমুজ অঞ্চলে উত্তেজনা জনবল সংকটে অচল আইসিইউ, রাজশাহী বিভাগে বাড়ছে সংকট, চাপের মুখে রামেক শ্রীলঙ্কার কাছে অপ্রত্যাশিত হার, কঠিন সমীকরণে বাংলাদেশ হকি দল কুষ্টিয়ায় হামে আক্রান্ত হয়ে আট মাস বয়সী শিশুর মৃত্যু ২০০ টাকার নিচে নেই মাছ, ঈদের পরও চাপে নিত্যপণ্যের বাজার হাজারীবাগে ভাড়া বাসা থেকে ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

জনবল সংকটে অচল আইসিইউ, রাজশাহী বিভাগে বাড়ছে সংকট, চাপের মুখে রামেক

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১১:২১:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা হাসপাতালে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও শয্যা থাকা সত্ত্বেও জনবল সংকটে অচল হয়ে পড়েছে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)। ফলে মুমূর্ষু রোগীদের সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে বাধ্য হয়ে রাজশাহীতে রেফার করা হচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মতে, আইসিইউ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট, ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্সের ঘাটতিই এই সংকটের মূল কারণ।

বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ৪০ শয্যার আইসিইউ-ই এই অঞ্চলের রোগীদের প্রধান ভরসা। তবে এই ইউনিটটিও সরকারিভাবে অনুমোদিত নয়; হাসপাতালের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সীমিত জনবল দিয়ে কোনোভাবে চালানো হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী এ ধরনের আইসিইউ পরিচালনায় অন্তত ১০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রয়োজন হলেও রামেকে রয়েছেন মাত্র একজন। নার্স ও অন্যান্য জনবলও পর্যাপ্ত নয়। ফলে অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। প্রতিদিনই গড়ে ১৫ থেকে ২০ জন রোগী আইসিইউ বেডের অপেক্ষায় থাকছেন।

অন্যদিকে, বিভাগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও জয়পুরহাটের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ৫৪টি আইসিইউ শয্যা থাকলেও জনবল সংকটে সেগুলোর অধিকাংশই অচল হয়ে আছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যার হাসপাতালে আইসিইউর জন্য ১০টি বেড থাকলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবল না থাকায় তা কার্যত অচল। বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ৮টি আইসিইউ শয্যা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারহীন। বেসরকারি টিএমএসএস হাসপাতালেও ১৪টির মধ্যে মাত্র ৪টি শয্যা সচল রয়েছে।

সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল এবং শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আধুনিক আইসিইউ স্থাপন করা হলেও ২০১৪ সাল থেকে জনবল সংকটে সেগুলো চালু করা সম্ভব হয়নি। একই চিত্র জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালেও, ২০২২ সালে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও চিকিৎসক সংকটে এখনো চালু হয়নি আইসিইউ।

ফলে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের দ্রুত রাজশাহীতে পাঠানো ছাড়া বিকল্প থাকছে না। তবে দূরত্ব ও সময়ের কারণে এতে ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানান রোগীর স্বজনরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা এক স্বজন বলেন, “হাসপাতালে গুরুতর রোগী ভর্তি হলেও আইসিইউ সুবিধা না থাকায় দ্রুত রাজশাহীতে নিতে হয়। কিন্তু এত দূরে রোগী নিয়ে যাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।”

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বলেন, “আইসিইউ পরিচালনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত জনবল। সংকটের কারণে আমরা স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে এবং সীমিত জনবল দিয়ে সেবা চালিয়ে যাচ্ছি।”

এ বিষয়ে রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, “প্রতিটি জেলা হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে জনবল প্রশিক্ষণ ও নিয়োগের ঘাটতির কারণে তা বাস্তবায়নে সময় লাগছে।”

স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অচল আইসিইউগুলো চালু করা না গেলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

নতুন কথা/এসআর

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের কাছেও হার, বিদায়ের শঙ্কায় বাংলাদেশ নারী দল

জনবল সংকটে অচল আইসিইউ, রাজশাহী বিভাগে বাড়ছে সংকট, চাপের মুখে রামেক

আপডেট সময় ১১:২১:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা হাসপাতালে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও শয্যা থাকা সত্ত্বেও জনবল সংকটে অচল হয়ে পড়েছে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)। ফলে মুমূর্ষু রোগীদের সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে বাধ্য হয়ে রাজশাহীতে রেফার করা হচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মতে, আইসিইউ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট, ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্সের ঘাটতিই এই সংকটের মূল কারণ।

বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ৪০ শয্যার আইসিইউ-ই এই অঞ্চলের রোগীদের প্রধান ভরসা। তবে এই ইউনিটটিও সরকারিভাবে অনুমোদিত নয়; হাসপাতালের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সীমিত জনবল দিয়ে কোনোভাবে চালানো হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী এ ধরনের আইসিইউ পরিচালনায় অন্তত ১০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রয়োজন হলেও রামেকে রয়েছেন মাত্র একজন। নার্স ও অন্যান্য জনবলও পর্যাপ্ত নয়। ফলে অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। প্রতিদিনই গড়ে ১৫ থেকে ২০ জন রোগী আইসিইউ বেডের অপেক্ষায় থাকছেন।

অন্যদিকে, বিভাগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও জয়পুরহাটের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ৫৪টি আইসিইউ শয্যা থাকলেও জনবল সংকটে সেগুলোর অধিকাংশই অচল হয়ে আছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যার হাসপাতালে আইসিইউর জন্য ১০টি বেড থাকলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবল না থাকায় তা কার্যত অচল। বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ৮টি আইসিইউ শয্যা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারহীন। বেসরকারি টিএমএসএস হাসপাতালেও ১৪টির মধ্যে মাত্র ৪টি শয্যা সচল রয়েছে।

সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল এবং শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আধুনিক আইসিইউ স্থাপন করা হলেও ২০১৪ সাল থেকে জনবল সংকটে সেগুলো চালু করা সম্ভব হয়নি। একই চিত্র জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালেও, ২০২২ সালে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও চিকিৎসক সংকটে এখনো চালু হয়নি আইসিইউ।

ফলে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের দ্রুত রাজশাহীতে পাঠানো ছাড়া বিকল্প থাকছে না। তবে দূরত্ব ও সময়ের কারণে এতে ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানান রোগীর স্বজনরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা এক স্বজন বলেন, “হাসপাতালে গুরুতর রোগী ভর্তি হলেও আইসিইউ সুবিধা না থাকায় দ্রুত রাজশাহীতে নিতে হয়। কিন্তু এত দূরে রোগী নিয়ে যাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।”

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বলেন, “আইসিইউ পরিচালনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত জনবল। সংকটের কারণে আমরা স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে এবং সীমিত জনবল দিয়ে সেবা চালিয়ে যাচ্ছি।”

এ বিষয়ে রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, “প্রতিটি জেলা হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে জনবল প্রশিক্ষণ ও নিয়োগের ঘাটতির কারণে তা বাস্তবায়নে সময় লাগছে।”

স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অচল আইসিইউগুলো চালু করা না গেলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

নতুন কথা/এসআর