ঢাকা ০৬:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মধ্যপ্রাচ্যে হামলার ঘটনায় ২ বাংলাদেশি নিহত, আহত ৭ সৌদির তেল শোধনাগারে হামলার অভিযোগ, আগুন নেভানো হলেও কার্যক্রম স্থগিত আলভীর সন্ধান মিলছে না, আত্মহত্যার মামলায় গোপনে থাকার আশঙ্কা রাজধানীর যানজট নিরসনে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনামূলক বৈঠক প্রধান বিরোধী দল জামায়াত পাচ্ছে ডেপুটি স্পিকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বকাপ ব্যর্থতার জেরে পাকিস্তান দলে জরিমানার ঝড়, খেলোয়াড়প্রতি ৫০ লাখ রুপি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপে বসবে না ইরান: নিরাপত্তা কর্মকর্তা লারিজানি কারচুপির অভিযোগে চার আসনের ফল চ্যালেঞ্জ, হাইকোর্টে বিএনপির প্রার্থীরা ৩ মার্চ থেকে ঈদযাত্রার ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু যুদ্ধের প্রভাব বাজারে, ভরিপ্রতি সোনা ২ লাখ ৭৪ হাজার ছাড়াল

সাবেক কাউন্সিলর বাপ্পির নির্দেশেই ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদি হত্যা: ডিবি

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:৩১:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৮ বার পড়া হয়েছে

মিরপুরের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পির নির্দেশে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

মঙ্গলবার বিকেলে হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়ার পর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে এবং তদন্তে এর সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ডিবির তথ্য অনুযায়ী, হাদি হত্যা মামলায় মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম, তার বোন জেসমিন, আলমগীর হোসেন ও ফিলিপসহ পাঁচজন এখনও পলাতক রয়েছে। তদন্তে নতুন করে কারও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিললে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা হবে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে শরিফ ওসমান হাদি ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক ধারার সূচনা করেছিলেন। বিভিন্ন সময় তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনামূলক বক্তব্য দেন। এসব বক্তব্যের কারণে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের একটি অংশ তার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ঘটনার দিন যিনি গুলি করেন, সেই ফয়সাল করিম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

ডিবি জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর ফয়সাল করিম ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে পালিয়ে যেতে সার্বিক সহায়তা দেন তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি। তিনি রাজনৈতিক প্রভাব ও যোগাযোগ ব্যবহার করে তাদের নিরাপদে আত্মগোপনে যেতে সহায়তা করেন। রাজনৈতিক পরিচয় এবং হাদির পূর্ববর্তী বক্তব্যের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র প্রসঙ্গে ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, উদ্ধারকৃত অস্ত্রের ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং ওই অস্ত্র দিয়েই হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিমের একটি ভিডিও প্রসঙ্গে শফিকুল ইসলাম বলেন, ভিডিওটির ফরেনসিক যাচাই করা হয়েছে এবং সেটি সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছে। তবে ফয়সালের বর্তমান অবস্থান এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।

ভারতে কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়ে ভারতীয় পুলিশের অস্বীকৃতির প্রসঙ্গে তিনি জানান, ডিবির কাছে এ ধরনের তথ্য রয়েছে, তবে বর্তমানে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলার মতো অবস্থায় নেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নতুন কথা/এসআর

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে হামলার ঘটনায় ২ বাংলাদেশি নিহত, আহত ৭

সাবেক কাউন্সিলর বাপ্পির নির্দেশেই ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদি হত্যা: ডিবি

আপডেট সময় ০৬:৩১:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

মিরপুরের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পির নির্দেশে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

মঙ্গলবার বিকেলে হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়ার পর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে এবং তদন্তে এর সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ডিবির তথ্য অনুযায়ী, হাদি হত্যা মামলায় মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম, তার বোন জেসমিন, আলমগীর হোসেন ও ফিলিপসহ পাঁচজন এখনও পলাতক রয়েছে। তদন্তে নতুন করে কারও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিললে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা হবে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে শরিফ ওসমান হাদি ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক ধারার সূচনা করেছিলেন। বিভিন্ন সময় তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনামূলক বক্তব্য দেন। এসব বক্তব্যের কারণে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের একটি অংশ তার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ঘটনার দিন যিনি গুলি করেন, সেই ফয়সাল করিম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

ডিবি জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর ফয়সাল করিম ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে পালিয়ে যেতে সার্বিক সহায়তা দেন তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি। তিনি রাজনৈতিক প্রভাব ও যোগাযোগ ব্যবহার করে তাদের নিরাপদে আত্মগোপনে যেতে সহায়তা করেন। রাজনৈতিক পরিচয় এবং হাদির পূর্ববর্তী বক্তব্যের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র প্রসঙ্গে ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, উদ্ধারকৃত অস্ত্রের ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং ওই অস্ত্র দিয়েই হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিমের একটি ভিডিও প্রসঙ্গে শফিকুল ইসলাম বলেন, ভিডিওটির ফরেনসিক যাচাই করা হয়েছে এবং সেটি সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছে। তবে ফয়সালের বর্তমান অবস্থান এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।

ভারতে কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়ে ভারতীয় পুলিশের অস্বীকৃতির প্রসঙ্গে তিনি জানান, ডিবির কাছে এ ধরনের তথ্য রয়েছে, তবে বর্তমানে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলার মতো অবস্থায় নেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নতুন কথা/এসআর