ঢাকা ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চীনের কাছেও হার, বিদায়ের শঙ্কায় বাংলাদেশ নারী দল গণভোট বাতিলের সঙ্গে জুলাই সনদের কোনো সম্পর্ক নেই: আইনমন্ত্রী ইরান ইস্যুতে হোয়াইট হাউস-পেন্টাগন দ্বন্দ্ব, যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন সংকটের আভাস কুষ্টিয়ায় ১৮ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু, হামের উপসর্গে উদ্বেগ বাড়ছে একদিনে দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, হরমুজ অঞ্চলে উত্তেজনা জনবল সংকটে অচল আইসিইউ, রাজশাহী বিভাগে বাড়ছে সংকট, চাপের মুখে রামেক শ্রীলঙ্কার কাছে অপ্রত্যাশিত হার, কঠিন সমীকরণে বাংলাদেশ হকি দল কুষ্টিয়ায় হামে আক্রান্ত হয়ে আট মাস বয়সী শিশুর মৃত্যু ২০০ টাকার নিচে নেই মাছ, ঈদের পরও চাপে নিত্যপণ্যের বাজার হাজারীবাগে ভাড়া বাসা থেকে ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন তেঁতুলিয়া, তাপমাত্রা নামতেই শীতের দাপট বেড়েছে

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১১:৩৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৪৮ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ফের জেঁকে বসেছে শীত। টানা এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের পর শনিবার সাময়িকভাবে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও রোববার আবার কমে গেছে পারদ। সঙ্গে বেড়েছে বাতাসের আর্দ্রতা ও ঘন কুয়াশা, যা শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ। ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত পুরো তেঁতুলিয়া এলাকা ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়ে থাকে। কুয়াশার কারণে সড়ক, মাঠ ও জনপথে দৃষ্টিসীমা নেমে আসে অতি কম পর্যায়ে। এ সময় যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করতে দেখা গেছে।

ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। চাকলাহাট এলাকার দিনমজুর সোনা মিয়া বলেন,“গত দুই দিন ধরে ভোরে ঠান্ডা খুব বেশি। কাজে বের হলে হাত-পা অবশ হয়ে আসে। ঠিকমতো কাজ করাই কষ্টকর হয়ে গেছে।”

একই অভিজ্ঞতার কথা জানান স্থানীয় ভ্যানচালক জরিফুল। তিনি বলেন, “ভোরবেলা ঘন কুয়াশার কারণে সামনে কিছুই দেখা যায় না। ধীরে ভ্যান চালাতে হয়, যাত্রীও কমে গেছে।”

ঢাকা-পঞ্চগড় মহাসড়কে চলাচলকারী ট্রাকচালক বাবুল হোসেন জানান, কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। তিনি বলেন,“হেডলাইট জ্বালিয়েও সামনে ঠিকভাবে দেখা যায় না। তাই খুব সাবধানে ও ধীরগতিতে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।”

এর আগের দিন শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯১ শতাংশ। সেদিন কুয়াশা না থাকলেও সকাল ১০টা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৩ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর্দ্রতা বেশি থাকায় তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি হলেও শীতের অনুভূতি কমেনি।

চলতি শীত মৌসুমে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় গত ১১ ডিসেম্বর। সেদিন পারদ নেমে আসে ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা এ মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, ১১ থেকে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত এলাকায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। শনিবার তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও রোববার তা আবার কমে এসেছে। তিনি বলেন,“আর্দ্রতা বেশি থাকায় শীতের অনুভূতি তীব্র হচ্ছে। ডিসেম্বরের শেষ দিকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনাও রয়েছে।”

নতুন কথা/এসআর

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের কাছেও হার, বিদায়ের শঙ্কায় বাংলাদেশ নারী দল

ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন তেঁতুলিয়া, তাপমাত্রা নামতেই শীতের দাপট বেড়েছে

আপডেট সময় ১১:৩৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ফের জেঁকে বসেছে শীত। টানা এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের পর শনিবার সাময়িকভাবে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও রোববার আবার কমে গেছে পারদ। সঙ্গে বেড়েছে বাতাসের আর্দ্রতা ও ঘন কুয়াশা, যা শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ। ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত পুরো তেঁতুলিয়া এলাকা ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়ে থাকে। কুয়াশার কারণে সড়ক, মাঠ ও জনপথে দৃষ্টিসীমা নেমে আসে অতি কম পর্যায়ে। এ সময় যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করতে দেখা গেছে।

ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। চাকলাহাট এলাকার দিনমজুর সোনা মিয়া বলেন,“গত দুই দিন ধরে ভোরে ঠান্ডা খুব বেশি। কাজে বের হলে হাত-পা অবশ হয়ে আসে। ঠিকমতো কাজ করাই কষ্টকর হয়ে গেছে।”

একই অভিজ্ঞতার কথা জানান স্থানীয় ভ্যানচালক জরিফুল। তিনি বলেন, “ভোরবেলা ঘন কুয়াশার কারণে সামনে কিছুই দেখা যায় না। ধীরে ভ্যান চালাতে হয়, যাত্রীও কমে গেছে।”

ঢাকা-পঞ্চগড় মহাসড়কে চলাচলকারী ট্রাকচালক বাবুল হোসেন জানান, কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। তিনি বলেন,“হেডলাইট জ্বালিয়েও সামনে ঠিকভাবে দেখা যায় না। তাই খুব সাবধানে ও ধীরগতিতে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।”

এর আগের দিন শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯১ শতাংশ। সেদিন কুয়াশা না থাকলেও সকাল ১০টা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৩ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর্দ্রতা বেশি থাকায় তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি হলেও শীতের অনুভূতি কমেনি।

চলতি শীত মৌসুমে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় গত ১১ ডিসেম্বর। সেদিন পারদ নেমে আসে ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা এ মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, ১১ থেকে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত এলাকায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। শনিবার তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও রোববার তা আবার কমে এসেছে। তিনি বলেন,“আর্দ্রতা বেশি থাকায় শীতের অনুভূতি তীব্র হচ্ছে। ডিসেম্বরের শেষ দিকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনাও রয়েছে।”

নতুন কথা/এসআর