ঢাকা ০১:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চীনের কাছেও হার, বিদায়ের শঙ্কায় বাংলাদেশ নারী দল গণভোট বাতিলের সঙ্গে জুলাই সনদের কোনো সম্পর্ক নেই: আইনমন্ত্রী ইরান ইস্যুতে হোয়াইট হাউস-পেন্টাগন দ্বন্দ্ব, যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন সংকটের আভাস কুষ্টিয়ায় ১৮ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু, হামের উপসর্গে উদ্বেগ বাড়ছে একদিনে দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, হরমুজ অঞ্চলে উত্তেজনা জনবল সংকটে অচল আইসিইউ, রাজশাহী বিভাগে বাড়ছে সংকট, চাপের মুখে রামেক শ্রীলঙ্কার কাছে অপ্রত্যাশিত হার, কঠিন সমীকরণে বাংলাদেশ হকি দল কুষ্টিয়ায় হামে আক্রান্ত হয়ে আট মাস বয়সী শিশুর মৃত্যু ২০০ টাকার নিচে নেই মাছ, ঈদের পরও চাপে নিত্যপণ্যের বাজার হাজারীবাগে ভাড়া বাসা থেকে ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

৩৫ বছর পর জাতীয় ঈদগাহে প্রধানমন্ত্রীর নামাজ, ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী রাজধানী

দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় পর রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দান-এ পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাতে অংশ নিলেন দেশের একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত এই জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন।

এই অংশগ্রহণকে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সর্বশেষ ১৯৮৯-৯০ সালে কাজী জাফর আহমদ পুরুষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এরপর টানা কয়েক দশক নারী প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ পরিচালিত হওয়ায় জাতীয় ঈদগাহে প্রধানমন্ত্রীর এমন উপস্থিতি আর দেখা যায়নি।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর একসঙ্গে ঈদের জামাতে অংশগ্রহণ রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দিক থেকেও গুরুত্ব বহন করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দিন আহমেদ এবং নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনুস প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে এই ঈদগাহে জামাতে অংশ নিয়েছিলেন। তবে ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী এখানে ঈদের প্রধান জামাতে শরিক হলেন।

ঈদের প্রধান জামাতে ইমামতি করেন মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক, যিনি বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এর খতিব। দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ শেষে খুতবা অনুষ্ঠিত হয় এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

ঈদের নামাজকে ঘিরে সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলে দলে মুসল্লিরা ঈদগাহমুখী হন। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে জামাত শুরুর প্রায় দুই ঘণ্টা আগে থেকেই মুসল্লিদের প্রবেশ শুরু হয়। পল্টন মোড়, জাতীয় প্রেস ক্লাব, মৎস্য ভবন এলাকা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রান্ত থেকে দীর্ঘ সারিতে মুসল্লিদের ঈদগাহে প্রবেশ করতে দেখা যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভরে ওঠে পুরো ঈদগাহ ময়দান।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন-এর ব্যবস্থাপনায় প্রস্তুত করা হয় ঈদগাহ ময়দান। এখানে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়, যার মধ্যে সাড়ে তিন হাজার নারীর জন্য ছিল পৃথক সুবিধা। নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ, অযু ও নামাজের নির্ধারিত স্থান নিশ্চিত করা হয়। পাশাপাশি মুসল্লিদের জন্য পর্যাপ্ত অযুখানা ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়।

মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, রাজনৈতিক নেতা, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয় এবারের ঈদের প্রধান জামাত।

 

নতুন কথা/এসআর

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের কাছেও হার, বিদায়ের শঙ্কায় বাংলাদেশ নারী দল

৩৫ বছর পর জাতীয় ঈদগাহে প্রধানমন্ত্রীর নামাজ, ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী রাজধানী

আপডেট সময় ০৯:২৪:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬

দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় পর রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দান-এ পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাতে অংশ নিলেন দেশের একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত এই জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন।

এই অংশগ্রহণকে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সর্বশেষ ১৯৮৯-৯০ সালে কাজী জাফর আহমদ পুরুষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এরপর টানা কয়েক দশক নারী প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ পরিচালিত হওয়ায় জাতীয় ঈদগাহে প্রধানমন্ত্রীর এমন উপস্থিতি আর দেখা যায়নি।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর একসঙ্গে ঈদের জামাতে অংশগ্রহণ রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দিক থেকেও গুরুত্ব বহন করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দিন আহমেদ এবং নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনুস প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে এই ঈদগাহে জামাতে অংশ নিয়েছিলেন। তবে ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী এখানে ঈদের প্রধান জামাতে শরিক হলেন।

ঈদের প্রধান জামাতে ইমামতি করেন মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক, যিনি বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এর খতিব। দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ শেষে খুতবা অনুষ্ঠিত হয় এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

ঈদের নামাজকে ঘিরে সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলে দলে মুসল্লিরা ঈদগাহমুখী হন। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে জামাত শুরুর প্রায় দুই ঘণ্টা আগে থেকেই মুসল্লিদের প্রবেশ শুরু হয়। পল্টন মোড়, জাতীয় প্রেস ক্লাব, মৎস্য ভবন এলাকা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রান্ত থেকে দীর্ঘ সারিতে মুসল্লিদের ঈদগাহে প্রবেশ করতে দেখা যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভরে ওঠে পুরো ঈদগাহ ময়দান।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন-এর ব্যবস্থাপনায় প্রস্তুত করা হয় ঈদগাহ ময়দান। এখানে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়, যার মধ্যে সাড়ে তিন হাজার নারীর জন্য ছিল পৃথক সুবিধা। নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ, অযু ও নামাজের নির্ধারিত স্থান নিশ্চিত করা হয়। পাশাপাশি মুসল্লিদের জন্য পর্যাপ্ত অযুখানা ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়।

মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, রাজনৈতিক নেতা, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয় এবারের ঈদের প্রধান জামাত।

 

নতুন কথা/এসআর