ঢাকা ০১:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চীনের কাছেও হার, বিদায়ের শঙ্কায় বাংলাদেশ নারী দল গণভোট বাতিলের সঙ্গে জুলাই সনদের কোনো সম্পর্ক নেই: আইনমন্ত্রী ইরান ইস্যুতে হোয়াইট হাউস-পেন্টাগন দ্বন্দ্ব, যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন সংকটের আভাস কুষ্টিয়ায় ১৮ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু, হামের উপসর্গে উদ্বেগ বাড়ছে একদিনে দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, হরমুজ অঞ্চলে উত্তেজনা জনবল সংকটে অচল আইসিইউ, রাজশাহী বিভাগে বাড়ছে সংকট, চাপের মুখে রামেক শ্রীলঙ্কার কাছে অপ্রত্যাশিত হার, কঠিন সমীকরণে বাংলাদেশ হকি দল কুষ্টিয়ায় হামে আক্রান্ত হয়ে আট মাস বয়সী শিশুর মৃত্যু ২০০ টাকার নিচে নেই মাছ, ঈদের পরও চাপে নিত্যপণ্যের বাজার হাজারীবাগে ভাড়া বাসা থেকে ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

জামালপুরে ভাসমান সেতু ধসে ট্র্যাজেডি, ভাই-বোনসহ প্রাণ গেল ৫ শিশুর

ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয়েছে দেওয়ানগঞ্জ-এ। ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর স্থাপিত একটি ভাসমান সেতু ধসে পড়ে পানিতে ডুবে ভাই-বোনসহ পাঁচ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২১ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে দেওয়ানগঞ্জ থানার সামনে ব্রহ্মপুত্র নদ-এর ওপর নির্মিত সেতুটিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঈদের ছুটিতে ঘুরতে আসা মানুষের ভিড়ে সেতুটি অতিরিক্ত চাপ সহ্য করতে না পেরে ভেঙে পড়ে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

নিহতরা হলো- ডাকাতিয়াপাড়া গ্রামের জয়নাল মিয়ার মেয়ে মায়ামনি (১০), ঝালুরচর এলাকার শের আলীর ছেলে আব্দুল মোতালেব (৬) ও মেয়ে খাদিজা (১২), বেলতলি এলাকার হাবিবুল্লাহর ছেলে আবির হোসেন (১৪) এবং বালু গ্রামের জয়নালের ছেলে হাফেজ মিহাদ (১৬)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেতুতে হঠাৎ ভিড় বেড়ে গেলে একপর্যায়ে সেটি ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। অনেকেই সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও কয়েকজন শিশু নিখোঁজ হয়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিখোঁজ পাঁচ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় চা দোকানি মকবুল মিয়ার দাবি, প্রায় এক বছর ধরেই সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। যথাযথ সংস্কার বা বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নিহত হাফেজ মিহাদের চাচা রফিকুল ইসলাম শোকাহত কণ্ঠে বলেন, “ঈদের ছুটিতে ঘুরতে এসে এভাবে প্রাণ যাবে—কখনো ভাবিনি। সেতুটি ঠিক থাকলে এমন দুর্ঘটনা ঘটত না।”

এদিকে, দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান।

জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শেখ রবিউল ইসলাম আকন্দ জানান, নিখোঁজ পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং বর্তমানে আর কেউ নিখোঁজ নেই।

একটি অবহেলিত ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতু- আর সামান্য অসতর্কতা- মুহূর্তেই কেড়ে নিল পাঁচটি তাজা প্রাণ। ঈদের দিনে এমন দুর্ঘটনা পুরো এলাকাজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

নতুন কথা/এসআর

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের কাছেও হার, বিদায়ের শঙ্কায় বাংলাদেশ নারী দল

জামালপুরে ভাসমান সেতু ধসে ট্র্যাজেডি, ভাই-বোনসহ প্রাণ গেল ৫ শিশুর

আপডেট সময় ১১:৪০:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬

ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয়েছে দেওয়ানগঞ্জ-এ। ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর স্থাপিত একটি ভাসমান সেতু ধসে পড়ে পানিতে ডুবে ভাই-বোনসহ পাঁচ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২১ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে দেওয়ানগঞ্জ থানার সামনে ব্রহ্মপুত্র নদ-এর ওপর নির্মিত সেতুটিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঈদের ছুটিতে ঘুরতে আসা মানুষের ভিড়ে সেতুটি অতিরিক্ত চাপ সহ্য করতে না পেরে ভেঙে পড়ে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

নিহতরা হলো- ডাকাতিয়াপাড়া গ্রামের জয়নাল মিয়ার মেয়ে মায়ামনি (১০), ঝালুরচর এলাকার শের আলীর ছেলে আব্দুল মোতালেব (৬) ও মেয়ে খাদিজা (১২), বেলতলি এলাকার হাবিবুল্লাহর ছেলে আবির হোসেন (১৪) এবং বালু গ্রামের জয়নালের ছেলে হাফেজ মিহাদ (১৬)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেতুতে হঠাৎ ভিড় বেড়ে গেলে একপর্যায়ে সেটি ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। অনেকেই সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও কয়েকজন শিশু নিখোঁজ হয়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিখোঁজ পাঁচ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় চা দোকানি মকবুল মিয়ার দাবি, প্রায় এক বছর ধরেই সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। যথাযথ সংস্কার বা বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নিহত হাফেজ মিহাদের চাচা রফিকুল ইসলাম শোকাহত কণ্ঠে বলেন, “ঈদের ছুটিতে ঘুরতে এসে এভাবে প্রাণ যাবে—কখনো ভাবিনি। সেতুটি ঠিক থাকলে এমন দুর্ঘটনা ঘটত না।”

এদিকে, দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান।

জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শেখ রবিউল ইসলাম আকন্দ জানান, নিখোঁজ পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং বর্তমানে আর কেউ নিখোঁজ নেই।

একটি অবহেলিত ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতু- আর সামান্য অসতর্কতা- মুহূর্তেই কেড়ে নিল পাঁচটি তাজা প্রাণ। ঈদের দিনে এমন দুর্ঘটনা পুরো এলাকাজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

নতুন কথা/এসআর