ঢাকা ০৬:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চীনের কাছেও হার, বিদায়ের শঙ্কায় বাংলাদেশ নারী দল গণভোট বাতিলের সঙ্গে জুলাই সনদের কোনো সম্পর্ক নেই: আইনমন্ত্রী ইরান ইস্যুতে হোয়াইট হাউস-পেন্টাগন দ্বন্দ্ব, যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন সংকটের আভাস কুষ্টিয়ায় ১৮ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু, হামের উপসর্গে উদ্বেগ বাড়ছে একদিনে দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, হরমুজ অঞ্চলে উত্তেজনা জনবল সংকটে অচল আইসিইউ, রাজশাহী বিভাগে বাড়ছে সংকট, চাপের মুখে রামেক শ্রীলঙ্কার কাছে অপ্রত্যাশিত হার, কঠিন সমীকরণে বাংলাদেশ হকি দল কুষ্টিয়ায় হামে আক্রান্ত হয়ে আট মাস বয়সী শিশুর মৃত্যু ২০০ টাকার নিচে নেই মাছ, ঈদের পরও চাপে নিত্যপণ্যের বাজার হাজারীবাগে ভাড়া বাসা থেকে ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

যুদ্ধের মধ্যেও থামেনি আয়: প্রতিদিন প্রায় ১৪ কোটি ডলার ঘরে তুলছে ইরান

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১১:৩৮:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে টানা প্রায় এক মাসের সংঘাত চললেও ইরানের অর্থনীতির একটি বড় খাত, তেল, অবিচল রয়েছে। বরং চলমান এই উত্তেজনার মধ্যেই প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার আয় করছে দেশটি, যার পুরোটা আসছে জ্বালানি তেল রপ্তানি থেকে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে গোয়েন্দা তথ্য ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে। আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্ত করা এই প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ, যেখানে প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে। এ কারণে হরমুজ প্রণালিকে অনেক সময় ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’ বলা হয়।

এই প্রণালিতে উত্তেজনা ও সীমাবদ্ধতার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোকে বিকল্প রুট খুঁজতে হচ্ছে, এমনকি অনেক দেশ তেলের উৎপাদনও কমিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এই পরিস্থিতির বিপরীতে সুবিধা নিচ্ছে ইরান।

গোয়েন্দা সূত্র ও বাজার বিশ্লেষকদের তথ্যে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ১০ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল তেল রপ্তানি করছে দেশটি। ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে তেল প্রথমে খার্গ দ্বীপের টার্মিনালে নেওয়া হয়, এরপর সেখান থেকে হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধের মধ্যেও ইরানের তেল উত্তোলনে বড় কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি। বরং সরবরাহ সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ফলে একই পরিমাণ তেল বিক্রি করেও ইরানের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যেখানে গত ফেব্রুয়ারিতে দৈনিক আয় ছিল প্রায় ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলার, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪ কোটির কাছাকাছি।

এছাড়া হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে টোল আদায় করেও বাড়তি আয় করছে ইরান। এই খাত থেকে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ডলার উপার্জন হচ্ছে বলে জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক থিঙ্কট্যাংক গ্লোবাল এনার্জি পলিসির জ্যেষ্ঠ গবেষক রিচার্ড নেফিউ এ প্রসঙ্গে বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ইরানের তেল খাতকে চাপে ফেলা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এই পরিস্থিতিই ইরানের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করেছে।”

সব মিলিয়ে, যুদ্ধের উত্তাপের মধ্যেও ইরান তার জ্বালানি খাতকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক প্রবাহ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতির নতুন বাস্তবতা হিসেবে সামনে আসছে।

নতুন কথা/এসআর

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের কাছেও হার, বিদায়ের শঙ্কায় বাংলাদেশ নারী দল

যুদ্ধের মধ্যেও থামেনি আয়: প্রতিদিন প্রায় ১৪ কোটি ডলার ঘরে তুলছে ইরান

আপডেট সময় ১১:৩৮:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে টানা প্রায় এক মাসের সংঘাত চললেও ইরানের অর্থনীতির একটি বড় খাত, তেল, অবিচল রয়েছে। বরং চলমান এই উত্তেজনার মধ্যেই প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার আয় করছে দেশটি, যার পুরোটা আসছে জ্বালানি তেল রপ্তানি থেকে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে গোয়েন্দা তথ্য ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে। আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্ত করা এই প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ, যেখানে প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে। এ কারণে হরমুজ প্রণালিকে অনেক সময় ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’ বলা হয়।

এই প্রণালিতে উত্তেজনা ও সীমাবদ্ধতার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোকে বিকল্প রুট খুঁজতে হচ্ছে, এমনকি অনেক দেশ তেলের উৎপাদনও কমিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এই পরিস্থিতির বিপরীতে সুবিধা নিচ্ছে ইরান।

গোয়েন্দা সূত্র ও বাজার বিশ্লেষকদের তথ্যে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ১০ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল তেল রপ্তানি করছে দেশটি। ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে তেল প্রথমে খার্গ দ্বীপের টার্মিনালে নেওয়া হয়, এরপর সেখান থেকে হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধের মধ্যেও ইরানের তেল উত্তোলনে বড় কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি। বরং সরবরাহ সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ফলে একই পরিমাণ তেল বিক্রি করেও ইরানের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যেখানে গত ফেব্রুয়ারিতে দৈনিক আয় ছিল প্রায় ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলার, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪ কোটির কাছাকাছি।

এছাড়া হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে টোল আদায় করেও বাড়তি আয় করছে ইরান। এই খাত থেকে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ডলার উপার্জন হচ্ছে বলে জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক থিঙ্কট্যাংক গ্লোবাল এনার্জি পলিসির জ্যেষ্ঠ গবেষক রিচার্ড নেফিউ এ প্রসঙ্গে বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ইরানের তেল খাতকে চাপে ফেলা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এই পরিস্থিতিই ইরানের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করেছে।”

সব মিলিয়ে, যুদ্ধের উত্তাপের মধ্যেও ইরান তার জ্বালানি খাতকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক প্রবাহ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতির নতুন বাস্তবতা হিসেবে সামনে আসছে।

নতুন কথা/এসআর