একসময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশকে দেখা হতো স্পিননির্ভর দল হিসেবে। মোহাম্মদ রফিক, আব্দুর রাজ্জাক কিংবা সাকিব আল হাসানদের ঘিরেই গড়ে উঠেছিল বোলিং শক্তি। পেস বিভাগ ছিল তুলনামূলকভাবে দুর্বল। কিন্তু সময় বদলেছে, এখন সেই বাংলাদেশই গর্ব করে বিশ্বমানের পেস আক্রমণ নিয়ে।
ক্রিকেটের ‘বাইবেল’খ্যাত উইজডেন তুলে ধরেছে এই পরিবর্তনের গল্প, কীভাবে তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমানদের হাত ধরে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে টাইগার পেস ইউনিট।
এই রূপান্তরের ভিত্তি তৈরি হয় ২০১৫ সালে মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে। তবে প্রকৃত পরিবর্তনের সূচনা ধরা হয় ২০২২ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরকে। দীর্ঘদিনের হতাশার ইতিহাস ভেঙে সেবার প্রথমবারের মতো প্রোটিয়াদের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জেতে বাংলাদেশ, আর এই জয়ের নায়ক ছিলেন পেসাররাই।
সিরিজজুড়ে দুর্দান্ত বোলিংয়ে তাসকিন আহমেদ মাত্র ১৪ গড়ে ৮ উইকেট শিকার করেন। অন্যদিকে মুস্তাফিজুর রহমান ছিলেন সমান কার্যকর, তার নিয়ন্ত্রিত বোলিং চাপে ফেলে দেয় প্রতিপক্ষকে। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে তাসকিনের ৫ উইকেট আর মুস্তাফিজের কৃপণ বোলিংয়ে বড় সংগ্রহ গড়ার পথেই থেমে যায় স্বাগতিকরা।
এর আগেই মাউন্ট মঙ্গানুই-এ ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে পেসারদের অবদান ছিল অনস্বীকার্য। সেখানে এবাদত হোসেনর জাদুকরী স্পেল, সঙ্গে তাসকিন ও শরিফুল ইসলামর সহায়তা, সব মিলিয়ে গড়ে ওঠে এক অবিস্মরণীয় জয়।
পরিসংখ্যান বলছে, এই পরিবর্তন কেবল গল্প নয়, বাস্তব। ২০২২ সালের আগে যেখানে প্রতি ওয়ানডেতে বাংলাদেশের পেসাররা গড়ে ৩.১৫ উইকেট নিতেন, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৮৫-এ। বোলিং গড়ও কমে এসেছে ৩৬.০৬ থেকে ৩০.৫৭-এ। পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এখন বাংলাদেশের সিমারদের গড় চতুর্থ সেরা, আর ইকোনমি রেট দ্বিতীয় সেরা, যা বিশ্ব ক্রিকেটে বড় অর্জন।
নতুন প্রজন্ম এই শক্তিকে আরও গভীর করেছে। নাহিদ রানা, হাসান মাহমুদ, তানজিম হাসান সাকিবদের মতো তরুণরা যুক্ত হয়ে তৈরি করেছেন এক সমৃদ্ধ পেস আক্রমণ। সম্প্রতি পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে এই পেসত্রয়ী মিলে ১৯ উইকেট শিকার করে তাদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছে।
অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও স্বীকার করেছেন, এই পেস ইউনিটই এখন দলের সবচেয়ে বড় শক্তি—যারা ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয় বহুগুণে।
সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক দিক হলো, তাসকিন ও মুস্তাফিজ এখনো তাদের ক্যারিয়ারের শীর্ষ সময়ে পৌঁছাননি, অথচ ইতোমধ্যেই এক দশকের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন। অন্যদিকে তরুণদের সামনে পড়ে আছে দীর্ঘ পথ।
সব মিলিয়ে, স্পিননির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে পেসনির্ভর এক নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে, যারা এখন আর কেবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বিশ্ব ক্রিকেটে আধিপত্য বিস্তারের স্বপ্ন দেখছে।
নতুন কথা/এসআর
নিজস্ব সংবাদ : 
























