ঢাকা ০২:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চাঁদ দেখার অপেক্ষায় দেশ, ঘরমুখো মানুষের ঢল আর বাজারে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা যেভাবে বিশ্বসেরা পেসারে পরিণত হয়েছেন তাসকিন-মুস্তাফিজরা! মেহেদির রঙে রাঙা প্রেম, দেব-রুক্মিণীকে ঘিরে বিয়ের জল্পনা তুঙ্গে ঈদযাত্রায় স্বস্তির চিত্র, নির্ধারিত ভাড়াই নিচ্ছে পরিবহন: সড়ক পরিবহনমন্ত্রী যানবাহনের চাপ বাড়লেও স্বস্তির ঈদযাত্রা, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে নেই যানজট সৌদিতে মিসাইল হামলায় আহত প্রবাসী মামুনের মৃত্যু, শোক ময়মনসিংহে ঈদযাত্রায় কমলাপুরে ঘরমুখো মানুষের ঢল, টিকিট কেটেও সিট না পাওয়ার অভিযোগ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ঝড় তুলেছে গেজেট ব্র্যান্ড ‘চার্জ’-এর বিজ্ঞাপন ট্রাম্প-শির আলোচিত বৈঠক ইরান যুদ্ধের জেরে পেছাচ্ছে ঈদযাত্রায় আব্দুল্লাহপুরে ঘরমুখো মানুষের ঢল, বাস সংকট ও বাড়তি ভাড়ায় চরম দুর্ভোগ

যেভাবে বিশ্বসেরা পেসারে পরিণত হয়েছেন তাসকিন-মুস্তাফিজরা!

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৪:১১:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

একসময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশকে দেখা হতো স্পিননির্ভর দল হিসেবে। মোহাম্মদ রফিক, আব্দুর রাজ্জাক কিংবা সাকিব আল হাসানদের ঘিরেই গড়ে উঠেছিল বোলিং শক্তি। পেস বিভাগ ছিল তুলনামূলকভাবে দুর্বল। কিন্তু সময় বদলেছে, এখন সেই বাংলাদেশই গর্ব করে বিশ্বমানের পেস আক্রমণ নিয়ে।

ক্রিকেটের ‘বাইবেল’খ্যাত উইজডেন তুলে ধরেছে এই পরিবর্তনের গল্প, কীভাবে তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমানদের হাত ধরে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে টাইগার পেস ইউনিট।

এই রূপান্তরের ভিত্তি তৈরি হয় ২০১৫ সালে মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে। তবে প্রকৃত পরিবর্তনের সূচনা ধরা হয় ২০২২ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরকে। দীর্ঘদিনের হতাশার ইতিহাস ভেঙে সেবার প্রথমবারের মতো প্রোটিয়াদের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জেতে বাংলাদেশ, আর এই জয়ের নায়ক ছিলেন পেসাররাই।

সিরিজজুড়ে দুর্দান্ত বোলিংয়ে তাসকিন আহমেদ মাত্র ১৪ গড়ে ৮ উইকেট শিকার করেন। অন্যদিকে মুস্তাফিজুর রহমান ছিলেন সমান কার্যকর, তার নিয়ন্ত্রিত বোলিং চাপে ফেলে দেয় প্রতিপক্ষকে। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে তাসকিনের ৫ উইকেট আর মুস্তাফিজের কৃপণ বোলিংয়ে বড় সংগ্রহ গড়ার পথেই থেমে যায় স্বাগতিকরা।

এর আগেই মাউন্ট মঙ্গানুই-এ ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে পেসারদের অবদান ছিল অনস্বীকার্য। সেখানে এবাদত হোসেনর জাদুকরী স্পেল, সঙ্গে তাসকিন ও শরিফুল ইসলামর সহায়তা, সব মিলিয়ে গড়ে ওঠে এক অবিস্মরণীয় জয়।

পরিসংখ্যান বলছে, এই পরিবর্তন কেবল গল্প নয়, বাস্তব। ২০২২ সালের আগে যেখানে প্রতি ওয়ানডেতে বাংলাদেশের পেসাররা গড়ে ৩.১৫ উইকেট নিতেন, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৮৫-এ। বোলিং গড়ও কমে এসেছে ৩৬.০৬ থেকে ৩০.৫৭-এ। পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এখন বাংলাদেশের সিমারদের গড় চতুর্থ সেরা, আর ইকোনমি রেট দ্বিতীয় সেরা, যা বিশ্ব ক্রিকেটে বড় অর্জন।

নতুন প্রজন্ম এই শক্তিকে আরও গভীর করেছে। নাহিদ রানা, হাসান মাহমুদ, তানজিম হাসান সাকিবদের মতো তরুণরা যুক্ত হয়ে তৈরি করেছেন এক সমৃদ্ধ পেস আক্রমণ। সম্প্রতি পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে এই পেসত্রয়ী মিলে ১৯ উইকেট শিকার করে তাদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছে।

অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও স্বীকার করেছেন, এই পেস ইউনিটই এখন দলের সবচেয়ে বড় শক্তি—যারা ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয় বহুগুণে।

সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক দিক হলো, তাসকিন ও মুস্তাফিজ এখনো তাদের ক্যারিয়ারের শীর্ষ সময়ে পৌঁছাননি, অথচ ইতোমধ্যেই এক দশকের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন। অন্যদিকে তরুণদের সামনে পড়ে আছে দীর্ঘ পথ।

সব মিলিয়ে, স্পিননির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে পেসনির্ভর এক নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে, যারা এখন আর কেবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বিশ্ব ক্রিকেটে আধিপত্য বিস্তারের স্বপ্ন দেখছে।

নতুন কথা/এসআর

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদ দেখার অপেক্ষায় দেশ, ঘরমুখো মানুষের ঢল আর বাজারে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা

যেভাবে বিশ্বসেরা পেসারে পরিণত হয়েছেন তাসকিন-মুস্তাফিজরা!

আপডেট সময় ০৪:১১:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

একসময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশকে দেখা হতো স্পিননির্ভর দল হিসেবে। মোহাম্মদ রফিক, আব্দুর রাজ্জাক কিংবা সাকিব আল হাসানদের ঘিরেই গড়ে উঠেছিল বোলিং শক্তি। পেস বিভাগ ছিল তুলনামূলকভাবে দুর্বল। কিন্তু সময় বদলেছে, এখন সেই বাংলাদেশই গর্ব করে বিশ্বমানের পেস আক্রমণ নিয়ে।

ক্রিকেটের ‘বাইবেল’খ্যাত উইজডেন তুলে ধরেছে এই পরিবর্তনের গল্প, কীভাবে তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমানদের হাত ধরে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে টাইগার পেস ইউনিট।

এই রূপান্তরের ভিত্তি তৈরি হয় ২০১৫ সালে মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে। তবে প্রকৃত পরিবর্তনের সূচনা ধরা হয় ২০২২ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরকে। দীর্ঘদিনের হতাশার ইতিহাস ভেঙে সেবার প্রথমবারের মতো প্রোটিয়াদের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জেতে বাংলাদেশ, আর এই জয়ের নায়ক ছিলেন পেসাররাই।

সিরিজজুড়ে দুর্দান্ত বোলিংয়ে তাসকিন আহমেদ মাত্র ১৪ গড়ে ৮ উইকেট শিকার করেন। অন্যদিকে মুস্তাফিজুর রহমান ছিলেন সমান কার্যকর, তার নিয়ন্ত্রিত বোলিং চাপে ফেলে দেয় প্রতিপক্ষকে। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে তাসকিনের ৫ উইকেট আর মুস্তাফিজের কৃপণ বোলিংয়ে বড় সংগ্রহ গড়ার পথেই থেমে যায় স্বাগতিকরা।

এর আগেই মাউন্ট মঙ্গানুই-এ ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে পেসারদের অবদান ছিল অনস্বীকার্য। সেখানে এবাদত হোসেনর জাদুকরী স্পেল, সঙ্গে তাসকিন ও শরিফুল ইসলামর সহায়তা, সব মিলিয়ে গড়ে ওঠে এক অবিস্মরণীয় জয়।

পরিসংখ্যান বলছে, এই পরিবর্তন কেবল গল্প নয়, বাস্তব। ২০২২ সালের আগে যেখানে প্রতি ওয়ানডেতে বাংলাদেশের পেসাররা গড়ে ৩.১৫ উইকেট নিতেন, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৮৫-এ। বোলিং গড়ও কমে এসেছে ৩৬.০৬ থেকে ৩০.৫৭-এ। পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এখন বাংলাদেশের সিমারদের গড় চতুর্থ সেরা, আর ইকোনমি রেট দ্বিতীয় সেরা, যা বিশ্ব ক্রিকেটে বড় অর্জন।

নতুন প্রজন্ম এই শক্তিকে আরও গভীর করেছে। নাহিদ রানা, হাসান মাহমুদ, তানজিম হাসান সাকিবদের মতো তরুণরা যুক্ত হয়ে তৈরি করেছেন এক সমৃদ্ধ পেস আক্রমণ। সম্প্রতি পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে এই পেসত্রয়ী মিলে ১৯ উইকেট শিকার করে তাদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছে।

অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও স্বীকার করেছেন, এই পেস ইউনিটই এখন দলের সবচেয়ে বড় শক্তি—যারা ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয় বহুগুণে।

সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক দিক হলো, তাসকিন ও মুস্তাফিজ এখনো তাদের ক্যারিয়ারের শীর্ষ সময়ে পৌঁছাননি, অথচ ইতোমধ্যেই এক দশকের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন। অন্যদিকে তরুণদের সামনে পড়ে আছে দীর্ঘ পথ।

সব মিলিয়ে, স্পিননির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে পেসনির্ভর এক নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে, যারা এখন আর কেবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বিশ্ব ক্রিকেটে আধিপত্য বিস্তারের স্বপ্ন দেখছে।

নতুন কথা/এসআর