ঢাকা ০৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চীনের কাছেও হার, বিদায়ের শঙ্কায় বাংলাদেশ নারী দল গণভোট বাতিলের সঙ্গে জুলাই সনদের কোনো সম্পর্ক নেই: আইনমন্ত্রী ইরান ইস্যুতে হোয়াইট হাউস-পেন্টাগন দ্বন্দ্ব, যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন সংকটের আভাস কুষ্টিয়ায় ১৮ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু, হামের উপসর্গে উদ্বেগ বাড়ছে একদিনে দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, হরমুজ অঞ্চলে উত্তেজনা জনবল সংকটে অচল আইসিইউ, রাজশাহী বিভাগে বাড়ছে সংকট, চাপের মুখে রামেক শ্রীলঙ্কার কাছে অপ্রত্যাশিত হার, কঠিন সমীকরণে বাংলাদেশ হকি দল কুষ্টিয়ায় হামে আক্রান্ত হয়ে আট মাস বয়সী শিশুর মৃত্যু ২০০ টাকার নিচে নেই মাছ, ঈদের পরও চাপে নিত্যপণ্যের বাজার হাজারীবাগে ভাড়া বাসা থেকে ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

‘বাংলাদেশ আমাদের দুম্বার মতো মেরেছে, ভয় হচ্ছে সহযোগী দেশ হয়ে যাই কি না’: মোহাম্মদ আমির

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৪:২০:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে বড় জয় দিয়ে বছরের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ শুরু করেছে বাংলাদেশ। মিরপুরে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্বাগতিকরা পাকিস্তানকে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে। নাহিদ রানা ও মেহেদী হাসান মিরাজের বোলিং তোপে মাত্র ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় শাহীন শাহ আফ্রিদির নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান দল। পরে ১৫.১ ওভারেই মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে সহজেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।

এই ম্যাচ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন পাকিস্তানের অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ আমির। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিশ্লেষণে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি উইকেট তৈরি করেছে যা পাকিস্তানের জন্য ছিল পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত।

আমিরের ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান ভেবেছিল মিরপুরে স্পিন সহায়ক উইকেট থাকবে। কিন্তু বাংলাদেশ ঘাসে ঢাকা বাউন্সি উইকেট তৈরি করে তাদের চমকে দিয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম স্পিন ট্র্যাক হবে, কিন্তু তারা বানিয়েছে পেস সহায়ক উইকেট। ঠিক যেন পরীক্ষায় সিলেবাসের বাইরের প্রশ্ন চলে এসেছে। আর আমাদের ব্যাটসম্যানরা ১৪০ কিলোমিটার গতির বোলিং দেখলেই সমস্যায় পড়ে যায়। নাহিদ রানা ও মেহেদী মিরাজ দারুণ বোলিং করেছে, বিশেষ করে নাহিদ ধারাবাহিকভাবে ১৪০-এর বেশি গতিতে বল করেছে।”

পাকিস্তানের ব্যাটিং ব্যর্থতার পেছনে অনুশীলনের ঘাটতি এবং দল নির্বাচনের দুর্বলতাকেও দায়ী করেন এই বাঁহাতি পেসার। তার মতে, প্রকৃত গতির বোলিং মোকাবিলায় পাকিস্তানি ব্যাটারদের প্রস্তুতি নেই। তরুণ ক্রিকেটারদের টেকনিকেও বেশ কিছু দুর্বলতা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

আমির বলেন, “অনুশীলনে শুধু ওপর থেকে বল ছুড়ে দিয়ে খেললে হবে না। আসল পেসের বিপক্ষে খেলার দক্ষতা থাকতে হবে। মাজ সাদাকাত বা শামিল হোসেনদের মতো তরুণদের টেকনিকে অনেক ভুল আছে। তারা বেশিরভাগ সময় মিড-উইকেটের দিকে খেলতে চায়, অফ স্টাম্পের বল বোঝে না।”

বর্তমান পাকিস্তান দলের ভারসাম্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। আমিরের মতে, শুধু তরুণদের নিয়ে দল গঠন করলে চলবে না, সেখানে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের উপস্থিতিও জরুরি।

তিনি বলেন, “আমরা এখন বাংলাদেশের কাছেও হারতে শুরু করেছি। আমার ভয় হচ্ছে আমরা কি শেষ পর্যন্ত সহযোগী সদস্য দেশের পর্যায়ে নেমে যাচ্ছি? ৫-৬ জন সিনিয়র খেলোয়াড়কে বাদ দিয়ে শুধু তরুণদের দিয়ে দল গড়া ঠিক নয়। দলে সিনিয়র ও জুনিয়রদের মধ্যে ভারসাম্য থাকতে হবে।”

একই সঙ্গে কয়েকজন পারফর্মিং ক্রিকেটারকে দলে সুযোগ না দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন আমির। তার মতে, কামরান গুলাম ও ইরফান খান নিয়াজির মতো খেলোয়াড়রা সুযোগ পেলে দল আরও শক্তিশালী হতে পারত।

বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করতেও ভোলেননি তিনি। আমিরের মন্তব্য, পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ খুব সহজেই লক্ষ্য তাড়া করেছে এবং পুরো ম্যাচেই তারা আধিপত্য দেখিয়েছে। তার ভাষায়, “বাংলাদেশ আমাদের দুম্বার মতো মেরেছে। যে উইকেটে আমরা ১১৪ রান করলাম, সেই উইকেটে তারা ১০-১৫ ওভারের মধ্যেই ম্যাচ শেষ করে দিয়েছে।”

পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের লক্ষ্যেই বাংলাদেশ একই ধরনের পেস সহায়ক উইকেট রাখবে বলেও ধারণা প্রকাশ করেন এই পেসার। তার মতে, বাংলাদেশের শক্তিশালী পেস আক্রমণ, বিশেষ করে নাহিদ রানার গতি এই সিরিজে স্বাগতিকদের বড় সুবিধা এনে দিতে পারে।

নতুন কথা/এসআর

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের কাছেও হার, বিদায়ের শঙ্কায় বাংলাদেশ নারী দল

‘বাংলাদেশ আমাদের দুম্বার মতো মেরেছে, ভয় হচ্ছে সহযোগী দেশ হয়ে যাই কি না’: মোহাম্মদ আমির

আপডেট সময় ০৪:২০:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে বড় জয় দিয়ে বছরের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ শুরু করেছে বাংলাদেশ। মিরপুরে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্বাগতিকরা পাকিস্তানকে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে। নাহিদ রানা ও মেহেদী হাসান মিরাজের বোলিং তোপে মাত্র ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় শাহীন শাহ আফ্রিদির নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান দল। পরে ১৫.১ ওভারেই মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে সহজেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।

এই ম্যাচ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন পাকিস্তানের অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ আমির। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিশ্লেষণে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি উইকেট তৈরি করেছে যা পাকিস্তানের জন্য ছিল পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত।

আমিরের ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান ভেবেছিল মিরপুরে স্পিন সহায়ক উইকেট থাকবে। কিন্তু বাংলাদেশ ঘাসে ঢাকা বাউন্সি উইকেট তৈরি করে তাদের চমকে দিয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম স্পিন ট্র্যাক হবে, কিন্তু তারা বানিয়েছে পেস সহায়ক উইকেট। ঠিক যেন পরীক্ষায় সিলেবাসের বাইরের প্রশ্ন চলে এসেছে। আর আমাদের ব্যাটসম্যানরা ১৪০ কিলোমিটার গতির বোলিং দেখলেই সমস্যায় পড়ে যায়। নাহিদ রানা ও মেহেদী মিরাজ দারুণ বোলিং করেছে, বিশেষ করে নাহিদ ধারাবাহিকভাবে ১৪০-এর বেশি গতিতে বল করেছে।”

পাকিস্তানের ব্যাটিং ব্যর্থতার পেছনে অনুশীলনের ঘাটতি এবং দল নির্বাচনের দুর্বলতাকেও দায়ী করেন এই বাঁহাতি পেসার। তার মতে, প্রকৃত গতির বোলিং মোকাবিলায় পাকিস্তানি ব্যাটারদের প্রস্তুতি নেই। তরুণ ক্রিকেটারদের টেকনিকেও বেশ কিছু দুর্বলতা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

আমির বলেন, “অনুশীলনে শুধু ওপর থেকে বল ছুড়ে দিয়ে খেললে হবে না। আসল পেসের বিপক্ষে খেলার দক্ষতা থাকতে হবে। মাজ সাদাকাত বা শামিল হোসেনদের মতো তরুণদের টেকনিকে অনেক ভুল আছে। তারা বেশিরভাগ সময় মিড-উইকেটের দিকে খেলতে চায়, অফ স্টাম্পের বল বোঝে না।”

বর্তমান পাকিস্তান দলের ভারসাম্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। আমিরের মতে, শুধু তরুণদের নিয়ে দল গঠন করলে চলবে না, সেখানে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের উপস্থিতিও জরুরি।

তিনি বলেন, “আমরা এখন বাংলাদেশের কাছেও হারতে শুরু করেছি। আমার ভয় হচ্ছে আমরা কি শেষ পর্যন্ত সহযোগী সদস্য দেশের পর্যায়ে নেমে যাচ্ছি? ৫-৬ জন সিনিয়র খেলোয়াড়কে বাদ দিয়ে শুধু তরুণদের দিয়ে দল গড়া ঠিক নয়। দলে সিনিয়র ও জুনিয়রদের মধ্যে ভারসাম্য থাকতে হবে।”

একই সঙ্গে কয়েকজন পারফর্মিং ক্রিকেটারকে দলে সুযোগ না দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন আমির। তার মতে, কামরান গুলাম ও ইরফান খান নিয়াজির মতো খেলোয়াড়রা সুযোগ পেলে দল আরও শক্তিশালী হতে পারত।

বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করতেও ভোলেননি তিনি। আমিরের মন্তব্য, পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ খুব সহজেই লক্ষ্য তাড়া করেছে এবং পুরো ম্যাচেই তারা আধিপত্য দেখিয়েছে। তার ভাষায়, “বাংলাদেশ আমাদের দুম্বার মতো মেরেছে। যে উইকেটে আমরা ১১৪ রান করলাম, সেই উইকেটে তারা ১০-১৫ ওভারের মধ্যেই ম্যাচ শেষ করে দিয়েছে।”

পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের লক্ষ্যেই বাংলাদেশ একই ধরনের পেস সহায়ক উইকেট রাখবে বলেও ধারণা প্রকাশ করেন এই পেসার। তার মতে, বাংলাদেশের শক্তিশালী পেস আক্রমণ, বিশেষ করে নাহিদ রানার গতি এই সিরিজে স্বাগতিকদের বড় সুবিধা এনে দিতে পারে।

নতুন কথা/এসআর