ঢাকা ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকায় নিজ বাসা থেকে জামায়াত নেতার মরদেহ উদ্ধার ত্বকের বলিরেখা কমাতে যেসব প্রাকৃতিক তেল হতে পারে ভরসা ভারতের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ আইসিসির, অবস্থানে অটল বিসিবি ইরানে নজিরবিহীন বিক্ষোভে নিহত প্রায় ২ হাজার মানুষ: সরকারি কর্মকর্তা বিএনপি নেতা ডাবলুর মৃত্যু: অভিযানে অংশ নেওয়া সব সেনাসদস্য প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি গঠন জ্বালানি সরবরাহ বড় চ্যালেঞ্জ, তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় সরকার: সালেহউদ্দিন আহমেদ আগামী নির্বাচনই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা : সালাহউদ্দিন আহমদ সবোজলাইয়ের নায়ক-খলনায়ক রাতেও বার্নসলিকে উড়িয়ে চতুর্থ রাউন্ডে লিভারপুল জীবনদর্শনের দূরত্বেই ফাটল: যে কারণে টেকেনি তাহসান-রোজার সংসার শিক্ষা শুধু চাকরির কারখানা নয়, সৃজনশীল মানুষ গড়ার পথ: প্রধান উপদেষ্টা

মেহেরপুর সীমান্তে এক বছরে ৩৭২ বাংলাদেশি ‘পুশইন’”

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা মেহেরপুরে ২০২৫ সালে এক গভীর মানবিক সংকটের খবর পাওয়া গেছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ রাতের অন্ধকারে বা সীমিত আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশিদের দেশে ফেরত পাঠাচ্ছে।

এক বছরের হিসাব অনুযায়ী, শুধু গাংনী ও মুজিবনগর সীমান্ত দিয়েই ৩৭২ জন বাংলাদেশিকে পুনঃস্থাপন করা হয়েছে।

ফেরত আসা মানুষদের অধিকাংশই ভারতে বহু বছর ধরে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন বা পরিবার গড়ে তুলেছেন। কেউ কেউ কলকাতা, নয়ডা, নদীয়া ও বহরমপুরের ইটভাটা, লোহার কারখানা ও নির্মাণ খাতে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু আইনের চোখে তারা ছিলেন অনিবন্ধিত।

ফেরত আসা ব্যক্তিরা জানান, ভারতীয় পুলিশ তাদের আটক করে হাজতে নেয়, পরে বিএসএফের হাতে হস্তান্তর করা হয়। কারাভোগের পর রাতে ট্রাকে করে সীমান্তে এনে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়।

উদাহরণস্বরূপ:
* ৩ ডিসেম্বর গাংনী সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ৩০ জন ফেরত পাঠানো হয়।
* ১৯ নভেম্বর কাথুলী সীমান্তে ২৪ জনকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়।
* অক্টোবর থেকে আগস্ট মাসে ফেরত আসার ঘটনা সবচেয়ে বেশি। ২৬ অক্টোবর মুজিবনগর সীমান্তে ২৯ জন ফিরতে বাধ্য হন।
* ২৫ অক্টোবর গাংনীর কাজিপুর ও কাথুলী সীমান্ত দিয়ে ৬০ জনকে দুই দফায় ফেরত পাঠানো হয়।

বছরের প্রথম দিকে, ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে মে, জুন, জুলাই পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে পুশইন হয়েছে। এই তালিকায় কুড়িগ্রাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, লালমনিরহাট, কক্সবাজার, ফরিদপুর ও পিরোজপুরের বাসিন্দারাও আছেন।

মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খান বলেন, পুশইন হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে বিজিবি স্থানীয় থানার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে তাদের দেশীয় অভিভাবকের হাতে হস্তান্তর করে। তবে কেউ যদি ভারতীয় নাগরিক হয়, তাদেরকে কারাগারে রাখা হয়।

চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, বিজিবি বিএসএফকে সতর্ক করেছে যে অবৈধভাবে ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের ডিপ্লোম্যাটিক চ্যানেল ব্যবহার না করে হস্তান্তর করা হলে তা বরদাস্ত করা হবে না। সাম্প্রতিক সময়ে পুশইন বেড়ে যাওয়ায় সীমান্তে নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।

নতুন কথা/ এসআর

ট্যাগস :

ঢাকায় নিজ বাসা থেকে জামায়াত নেতার মরদেহ উদ্ধার

মেহেরপুর সীমান্তে এক বছরে ৩৭২ বাংলাদেশি ‘পুশইন’”

আপডেট সময় ০৪:১৩:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা মেহেরপুরে ২০২৫ সালে এক গভীর মানবিক সংকটের খবর পাওয়া গেছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ রাতের অন্ধকারে বা সীমিত আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশিদের দেশে ফেরত পাঠাচ্ছে।

এক বছরের হিসাব অনুযায়ী, শুধু গাংনী ও মুজিবনগর সীমান্ত দিয়েই ৩৭২ জন বাংলাদেশিকে পুনঃস্থাপন করা হয়েছে।

ফেরত আসা মানুষদের অধিকাংশই ভারতে বহু বছর ধরে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন বা পরিবার গড়ে তুলেছেন। কেউ কেউ কলকাতা, নয়ডা, নদীয়া ও বহরমপুরের ইটভাটা, লোহার কারখানা ও নির্মাণ খাতে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু আইনের চোখে তারা ছিলেন অনিবন্ধিত।

ফেরত আসা ব্যক্তিরা জানান, ভারতীয় পুলিশ তাদের আটক করে হাজতে নেয়, পরে বিএসএফের হাতে হস্তান্তর করা হয়। কারাভোগের পর রাতে ট্রাকে করে সীমান্তে এনে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়।

উদাহরণস্বরূপ:
* ৩ ডিসেম্বর গাংনী সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ৩০ জন ফেরত পাঠানো হয়।
* ১৯ নভেম্বর কাথুলী সীমান্তে ২৪ জনকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়।
* অক্টোবর থেকে আগস্ট মাসে ফেরত আসার ঘটনা সবচেয়ে বেশি। ২৬ অক্টোবর মুজিবনগর সীমান্তে ২৯ জন ফিরতে বাধ্য হন।
* ২৫ অক্টোবর গাংনীর কাজিপুর ও কাথুলী সীমান্ত দিয়ে ৬০ জনকে দুই দফায় ফেরত পাঠানো হয়।

বছরের প্রথম দিকে, ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে মে, জুন, জুলাই পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে পুশইন হয়েছে। এই তালিকায় কুড়িগ্রাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, লালমনিরহাট, কক্সবাজার, ফরিদপুর ও পিরোজপুরের বাসিন্দারাও আছেন।

মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খান বলেন, পুশইন হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে বিজিবি স্থানীয় থানার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে তাদের দেশীয় অভিভাবকের হাতে হস্তান্তর করে। তবে কেউ যদি ভারতীয় নাগরিক হয়, তাদেরকে কারাগারে রাখা হয়।

চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, বিজিবি বিএসএফকে সতর্ক করেছে যে অবৈধভাবে ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের ডিপ্লোম্যাটিক চ্যানেল ব্যবহার না করে হস্তান্তর করা হলে তা বরদাস্ত করা হবে না। সাম্প্রতিক সময়ে পুশইন বেড়ে যাওয়ায় সীমান্তে নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।

নতুন কথা/ এসআর