ঢাকা ১০:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকায় নিজ বাসা থেকে জামায়াত নেতার মরদেহ উদ্ধার ত্বকের বলিরেখা কমাতে যেসব প্রাকৃতিক তেল হতে পারে ভরসা ভারতের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ আইসিসির, অবস্থানে অটল বিসিবি ইরানে নজিরবিহীন বিক্ষোভে নিহত প্রায় ২ হাজার মানুষ: সরকারি কর্মকর্তা বিএনপি নেতা ডাবলুর মৃত্যু: অভিযানে অংশ নেওয়া সব সেনাসদস্য প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি গঠন জ্বালানি সরবরাহ বড় চ্যালেঞ্জ, তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় সরকার: সালেহউদ্দিন আহমেদ আগামী নির্বাচনই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা : সালাহউদ্দিন আহমদ সবোজলাইয়ের নায়ক-খলনায়ক রাতেও বার্নসলিকে উড়িয়ে চতুর্থ রাউন্ডে লিভারপুল জীবনদর্শনের দূরত্বেই ফাটল: যে কারণে টেকেনি তাহসান-রোজার সংসার শিক্ষা শুধু চাকরির কারখানা নয়, সৃজনশীল মানুষ গড়ার পথ: প্রধান উপদেষ্টা

শোক যখন রাজনীতির মুদ্রা হয়, তখন গণতন্ত্র লাশের উপর দাঁড়ায়

  • আহমেদ শাহেদ:
  • আপডেট সময় ০৯:০৫:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

অকৃত্রিম ভালোবাসায় জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হয়ে ওঠা বেগম খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়ে যে লাখো মানুষের ঢল নেমেছিল, তা নিছক দলীয় আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ ছিল না। এটি ছিল দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক নিপীড়ন, একদলীয় দম্ভ এবং গণতন্ত্রহীনতার ভেতর দিয়ে হাঁটা একটি জাতির চাপা আবেগের বিস্ফোরণ। মৃত্যুর পথে পাড়ি জমানোর সময় কোটি মানুষের ভালোবাসা সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া- এ সম্মান কোনো রাষ্ট্রীয় প্রপাগান্ডা, প্রশাসনিক জোর কিংবা মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ দিয়ে তৈরি করা যায় না। এই ভালোবাসা জন্ম নেয় নিপীড়নের বিপরীতে দাঁড়ানো এক দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম থেকে।

কিন্তু ইতিহাস বলে, শোক যত বড় হয়, রাজনীতির লোভও তত ভয়ংকর হয়ে ওঠে। আর বাংলাদেশ সেই করুণ বাস্তবতার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী।

স্বাধীনতার বছর কয়েক পর শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড ছিল একটি গভীর জাতীয় ট্র্যাজেডি। কিন্তু সেই শোককে রাষ্ট্রীয় ঐক্যের ভিত্তি না বানিয়ে যেভাবে শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগ গত প্রায় দুই দশক ধরে রাজনৈতিক পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করেছে, তা শুধু অমানবিক নয়- গণতন্ত্রবিরোধী অপরাধের শামিল। একটি ব্যক্তিগত ও জাতীয় শোককে কেন্দ্র করে বিরোধী মতকে দমন, ভিন্ন কণ্ঠকে রাষ্ট্রদ্রোহী বানানো এবং ক্ষমতার একচেটিয়া দখলদারিত্বকে নৈতিক বৈধতা দেওয়া- এই নোংরা রাজনীতির দায় ইতিহাস কখনো ক্ষমা করবে না।

শেখ হাসিনা তার বাবার মৃত্যুকে শোকের মর্যাদা না দিয়ে ক্ষমতার হাতিয়ারে পরিণত করেছেন। “বঙ্গবন্ধুর কন্যা” পরিচয়কে ব্যবহার করে তিনি নিজেকে রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বে স্থাপন করেছেন, যেখানে প্রশ্ন করা মানেই অপরাধ, সমালোচনা মানেই ষড়যন্ত্র। জাতীয় শোক দিবস বছরের পর বছর ধরে পরিণত হয়েছে রাজনৈতিক আনুগত্য পরীক্ষার দিন হিসেবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন, এমনকি শিক্ষা ব্যবস্থাও বাধ্য হয়েছে একটি বিশেষ রাজনৈতিক বয়ান বহন করতে। ফলাফল- রাষ্ট্র আর দল একাকার, শোক আর শাসন সমার্থক।

এই ফ্যাসিবাদী শাসনের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো, এটি জনগণকে শিখিয়েছে- শোককে কীভাবে রাজনৈতিক অস্ত্র বানাতে হয়। একজন মৃত মানুষকে সামনে রেখে জীবিতদের কণ্ঠরোধ করার এই সংস্কৃতি বাংলাদেশকে এক গভীর নৈতিক সংকটে ফেলেছে।

ঠিক এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু ঘটে। আর এখানেই বিএনপি ও জিয়া পরিবারের সামনে দাঁড়িয়ে গেছে এক কঠিন, কিন্তু ঐতিহাসিক দায়িত্ব।

বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন সংগ্রামী এবং দৃঢ়চেতা একজন রাজনৈতিক নেতা। তিনি ক্ষমতায় ছিলেন, ক্ষমতার বাইরে ছিলেন, কারাগারে ছিলেন, অসুস্থ ছিলেন- সব অবস্থাতেই তিনি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু তার মৃত্যুর পর যে দৃশ্য দেখা গেছে, তা তাকে কেবল বিএনপির নেত্রী নয়, বরং এক বৃহত্তর জাতীয় আবেগের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। এই আবেগকে সম্মান করা যেমন জরুরি, তেমনি এর অপব্যবহার থেকে বিরত থাকাও নৈতিক কর্তব্য।

আজ বিএনপি যদি শেখ হাসিনার পথ অনুসরণ করে- যদি তারা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুকে ভোটের আবেগে রূপ দেয়, যদি শোককে প্রতিহিংসার ভাষায় অনুবাদ করে, যদি তার কবরকে রাজনৈতিক মঞ্চ বানায়- তাহলে ইতিহাসের কাঠগড়ায় তারা আওয়ামী লীগের পাশেই দাঁড়াবে। তখন পার্থক্য থাকবে না ফ্যাসিবাদ আর বিরোধিতার মধ্যে।

জিয়া পরিবার ও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি এখানেই স্পষ্ট পরামর্শ: এই শোককে পবিত্র থাকতে দিন। জনগণের ভালোবাসাকে রাজনৈতিক হিসাবের খাতায় তুলবেন না। বেগম খালেদা জিয়ার নাম ব্যবহার করে কাউকে ঘৃণা শেখাবেন না, বিভাজন তৈরি করবেন না। তার জীবন যদি কিছু শিখিয়ে থাকে, তা হলো- ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু সম্মান টিকে থাকে আচরণে।

শোক থেকে শিক্ষা নেওয়াই সভ্য রাজনীতির পরিচয়। শেখ হাসিনা তা পারেননি। তিনি শোককে ক্ষমতার স্থায়ী লাইসেন্স বানিয়েছেন। বিএনপি যদি সত্যিই ভিন্ন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তবে তাদের দেখাতে হবে- শোককে কীভাবে সংযম, নৈতিকতা ও গণতান্ত্রিক দায়িত্বে রূপান্তর করা যায়।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির উচিত হবে দলীয় পুনর্গঠন, নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক চর্চা এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতির রূপরেখা নিয়ে জনগণের সামনে স্পষ্ট হওয়া। আবেগ নয়- নীতিই হোক তাদের শক্তি। স্মরণসভা হোক মর্যাদাপূর্ণ, বক্তব্য হোক দায়িত্বশীল, কর্মসূচি হোক অহিংস ও অন্তর্ভুক্তিমূলক।

এই দেশ আর শোকের রাজনীতি সহ্য করতে পারে না। প্রতিটি মৃত্যু যদি ক্ষমতার সিঁড়ি হয়, তবে জীবনের মূল্য শূন্যে নেমে আসে। শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসন আমাদের সেই ভয়ংকর জায়গায় নিয়ে গেছে, যেখানে লাশও ভোটব্যাংক।

বেগম খালেদা জিয়ার বিদায় সেই চক্র ভাঙার একটি সুযোগ এনে দিয়েছে। প্রশ্ন হলো- বিএনপি কি সেই সুযোগ গ্রহণ করবে, নাকি তারাও ইতিহাসের একই অন্ধকার অধ্যায় পুনরাবৃত্তি করবে?

একজন নেত্রীর মৃত্যু অনিবার্য। কিন্তু সেই মৃত্যুর পর রাজনীতির চরিত্রই নির্ধারণ করে দেয়, একটি জাতি সভ্য হচ্ছে- নাকি আরও নিষ্ঠুর।

এই শোক যদি রাজনীতিকে শুদ্ধ করে, তবেই বেগম খালেদা জিয়ার বিদায় অর্থবহ হবে। নইলে আরেকটি মহান মৃত্যু ইতিহাসের নোংরা খেলায় হারিয়ে যাবে।

 

লেখক: কলামিস্ট ও গণমাধ্যমকর্মী।

ঢাকায় নিজ বাসা থেকে জামায়াত নেতার মরদেহ উদ্ধার

শোক যখন রাজনীতির মুদ্রা হয়, তখন গণতন্ত্র লাশের উপর দাঁড়ায়

আপডেট সময় ০৯:০৫:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

অকৃত্রিম ভালোবাসায় জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হয়ে ওঠা বেগম খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়ে যে লাখো মানুষের ঢল নেমেছিল, তা নিছক দলীয় আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ ছিল না। এটি ছিল দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক নিপীড়ন, একদলীয় দম্ভ এবং গণতন্ত্রহীনতার ভেতর দিয়ে হাঁটা একটি জাতির চাপা আবেগের বিস্ফোরণ। মৃত্যুর পথে পাড়ি জমানোর সময় কোটি মানুষের ভালোবাসা সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া- এ সম্মান কোনো রাষ্ট্রীয় প্রপাগান্ডা, প্রশাসনিক জোর কিংবা মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ দিয়ে তৈরি করা যায় না। এই ভালোবাসা জন্ম নেয় নিপীড়নের বিপরীতে দাঁড়ানো এক দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম থেকে।

কিন্তু ইতিহাস বলে, শোক যত বড় হয়, রাজনীতির লোভও তত ভয়ংকর হয়ে ওঠে। আর বাংলাদেশ সেই করুণ বাস্তবতার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী।

স্বাধীনতার বছর কয়েক পর শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড ছিল একটি গভীর জাতীয় ট্র্যাজেডি। কিন্তু সেই শোককে রাষ্ট্রীয় ঐক্যের ভিত্তি না বানিয়ে যেভাবে শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগ গত প্রায় দুই দশক ধরে রাজনৈতিক পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করেছে, তা শুধু অমানবিক নয়- গণতন্ত্রবিরোধী অপরাধের শামিল। একটি ব্যক্তিগত ও জাতীয় শোককে কেন্দ্র করে বিরোধী মতকে দমন, ভিন্ন কণ্ঠকে রাষ্ট্রদ্রোহী বানানো এবং ক্ষমতার একচেটিয়া দখলদারিত্বকে নৈতিক বৈধতা দেওয়া- এই নোংরা রাজনীতির দায় ইতিহাস কখনো ক্ষমা করবে না।

শেখ হাসিনা তার বাবার মৃত্যুকে শোকের মর্যাদা না দিয়ে ক্ষমতার হাতিয়ারে পরিণত করেছেন। “বঙ্গবন্ধুর কন্যা” পরিচয়কে ব্যবহার করে তিনি নিজেকে রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বে স্থাপন করেছেন, যেখানে প্রশ্ন করা মানেই অপরাধ, সমালোচনা মানেই ষড়যন্ত্র। জাতীয় শোক দিবস বছরের পর বছর ধরে পরিণত হয়েছে রাজনৈতিক আনুগত্য পরীক্ষার দিন হিসেবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন, এমনকি শিক্ষা ব্যবস্থাও বাধ্য হয়েছে একটি বিশেষ রাজনৈতিক বয়ান বহন করতে। ফলাফল- রাষ্ট্র আর দল একাকার, শোক আর শাসন সমার্থক।

এই ফ্যাসিবাদী শাসনের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো, এটি জনগণকে শিখিয়েছে- শোককে কীভাবে রাজনৈতিক অস্ত্র বানাতে হয়। একজন মৃত মানুষকে সামনে রেখে জীবিতদের কণ্ঠরোধ করার এই সংস্কৃতি বাংলাদেশকে এক গভীর নৈতিক সংকটে ফেলেছে।

ঠিক এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু ঘটে। আর এখানেই বিএনপি ও জিয়া পরিবারের সামনে দাঁড়িয়ে গেছে এক কঠিন, কিন্তু ঐতিহাসিক দায়িত্ব।

বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন সংগ্রামী এবং দৃঢ়চেতা একজন রাজনৈতিক নেতা। তিনি ক্ষমতায় ছিলেন, ক্ষমতার বাইরে ছিলেন, কারাগারে ছিলেন, অসুস্থ ছিলেন- সব অবস্থাতেই তিনি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু তার মৃত্যুর পর যে দৃশ্য দেখা গেছে, তা তাকে কেবল বিএনপির নেত্রী নয়, বরং এক বৃহত্তর জাতীয় আবেগের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। এই আবেগকে সম্মান করা যেমন জরুরি, তেমনি এর অপব্যবহার থেকে বিরত থাকাও নৈতিক কর্তব্য।

আজ বিএনপি যদি শেখ হাসিনার পথ অনুসরণ করে- যদি তারা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুকে ভোটের আবেগে রূপ দেয়, যদি শোককে প্রতিহিংসার ভাষায় অনুবাদ করে, যদি তার কবরকে রাজনৈতিক মঞ্চ বানায়- তাহলে ইতিহাসের কাঠগড়ায় তারা আওয়ামী লীগের পাশেই দাঁড়াবে। তখন পার্থক্য থাকবে না ফ্যাসিবাদ আর বিরোধিতার মধ্যে।

জিয়া পরিবার ও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি এখানেই স্পষ্ট পরামর্শ: এই শোককে পবিত্র থাকতে দিন। জনগণের ভালোবাসাকে রাজনৈতিক হিসাবের খাতায় তুলবেন না। বেগম খালেদা জিয়ার নাম ব্যবহার করে কাউকে ঘৃণা শেখাবেন না, বিভাজন তৈরি করবেন না। তার জীবন যদি কিছু শিখিয়ে থাকে, তা হলো- ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু সম্মান টিকে থাকে আচরণে।

শোক থেকে শিক্ষা নেওয়াই সভ্য রাজনীতির পরিচয়। শেখ হাসিনা তা পারেননি। তিনি শোককে ক্ষমতার স্থায়ী লাইসেন্স বানিয়েছেন। বিএনপি যদি সত্যিই ভিন্ন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তবে তাদের দেখাতে হবে- শোককে কীভাবে সংযম, নৈতিকতা ও গণতান্ত্রিক দায়িত্বে রূপান্তর করা যায়।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির উচিত হবে দলীয় পুনর্গঠন, নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক চর্চা এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতির রূপরেখা নিয়ে জনগণের সামনে স্পষ্ট হওয়া। আবেগ নয়- নীতিই হোক তাদের শক্তি। স্মরণসভা হোক মর্যাদাপূর্ণ, বক্তব্য হোক দায়িত্বশীল, কর্মসূচি হোক অহিংস ও অন্তর্ভুক্তিমূলক।

এই দেশ আর শোকের রাজনীতি সহ্য করতে পারে না। প্রতিটি মৃত্যু যদি ক্ষমতার সিঁড়ি হয়, তবে জীবনের মূল্য শূন্যে নেমে আসে। শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসন আমাদের সেই ভয়ংকর জায়গায় নিয়ে গেছে, যেখানে লাশও ভোটব্যাংক।

বেগম খালেদা জিয়ার বিদায় সেই চক্র ভাঙার একটি সুযোগ এনে দিয়েছে। প্রশ্ন হলো- বিএনপি কি সেই সুযোগ গ্রহণ করবে, নাকি তারাও ইতিহাসের একই অন্ধকার অধ্যায় পুনরাবৃত্তি করবে?

একজন নেত্রীর মৃত্যু অনিবার্য। কিন্তু সেই মৃত্যুর পর রাজনীতির চরিত্রই নির্ধারণ করে দেয়, একটি জাতি সভ্য হচ্ছে- নাকি আরও নিষ্ঠুর।

এই শোক যদি রাজনীতিকে শুদ্ধ করে, তবেই বেগম খালেদা জিয়ার বিদায় অর্থবহ হবে। নইলে আরেকটি মহান মৃত্যু ইতিহাসের নোংরা খেলায় হারিয়ে যাবে।

 

লেখক: কলামিস্ট ও গণমাধ্যমকর্মী।