ঢাকা ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকায় নিজ বাসা থেকে জামায়াত নেতার মরদেহ উদ্ধার ত্বকের বলিরেখা কমাতে যেসব প্রাকৃতিক তেল হতে পারে ভরসা ভারতের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ আইসিসির, অবস্থানে অটল বিসিবি ইরানে নজিরবিহীন বিক্ষোভে নিহত প্রায় ২ হাজার মানুষ: সরকারি কর্মকর্তা বিএনপি নেতা ডাবলুর মৃত্যু: অভিযানে অংশ নেওয়া সব সেনাসদস্য প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি গঠন জ্বালানি সরবরাহ বড় চ্যালেঞ্জ, তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় সরকার: সালেহউদ্দিন আহমেদ আগামী নির্বাচনই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা : সালাহউদ্দিন আহমদ সবোজলাইয়ের নায়ক-খলনায়ক রাতেও বার্নসলিকে উড়িয়ে চতুর্থ রাউন্ডে লিভারপুল জীবনদর্শনের দূরত্বেই ফাটল: যে কারণে টেকেনি তাহসান-রোজার সংসার শিক্ষা শুধু চাকরির কারখানা নয়, সৃজনশীল মানুষ গড়ার পথ: প্রধান উপদেষ্টা
জমি না হলে মৃত্যু

পাকিস্তানে সামরিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে কৃষক বিদ্রোহ

সংগৃহিত ছবি

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত ‘Green Pakistan Initiative’ (সবুজ পাকিস্তান উদ্যোগ)-এর বিরুদ্ধে কৃষকদের প্রতিরোধ আজ নতুন মাত্রা পেয়েছে। জমি রক্ষার দাবিতে হাজারো কৃষক আবারও রাস্তায় নেমে এসেছেন। এই আন্দোলন এখন কেবল জমির অধিকার নয়, বরং মর্যাদা, সার্বভৌমত্ব ও কৃষক নেতৃত্বাধীন ভবিষ্যতের সংগ্রামে রূপ নিয়েছে।

 

সামরিক বাহিনী এবং রাষ্ট্রের যৌথ মালিকানাধীন প্রকল্পের আওতায় হাজার হাজার একর কৃষিজমি কর্পোরেট ব্যবস্থায় তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অথচ এসব জমিতে কয়েক প্রজন্ম ধরে কৃষকরা চাষাবাদ করে আসছেন। এখন তাঁদের অবৈধ দখলদার বলা হচ্ছে এবং উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হচ্ছে।

 

স্থানীয় কৃষক সংগঠন Anjuman Mazareen Punjab (AMP) জানায়, এই প্রকল্পের নামে সেনাবাহিনী বলপ্রয়োগের মাধ্যমে জমি দখল করছে, পুলিশ গ্রেপ্তার চালাচ্ছে, এমনকি ক্ষেতের ফসল পর্যন্ত ধ্বংস করছে। আন্দোলনকারীদের দাবি এই ‘উন্নয়ন’ প্রকল্প আসলে সামরিক পুঁজিবাদের রূপ। এর মাধ্যমে কর্পোরেট কৃষিকাজ, একজাতি চাষ, রাসায়নিক সার ও পানির উপর নির্ভরশীল একটি পরিবেশ বিধ্বংসী ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

 

AMP-এর এক নেতার ভাষায়, আমাদের কাছে অস্ত্র নেই, ক্ষমতা নেই, কিন্তু আছে মাটি আর ইতিহাস। জমিই আমাদের পরিচয়।

 

প্রতিরোধ দমন করতে রাষ্ট্র নানা দমননীতি গ্রহণ করেছে অভিযোগ রয়েছে, পুলিশি হয়রানি, গ্রেপ্তার, ভীতি প্রদর্শন এবং মিডিয়ায় কৃষকদের ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।

 

এদিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে কৃষকদের এই সংগ্রাম বেশ কিছু বামপন্থী ও পরিবেশবাদী সংগঠনের সমর্থন পেয়েছে। ভারত, ফিলিপাইন, ল্যাটিন আমেরিকা, ও আফ্রিকার বিভিন্ন কৃষক সংগঠন এর সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছে।

 

AMP বলছে, আমরা আধুনিকতা চাই, কিন্তু এমন আধুনিকতা নয় যা আমাদের মাটি কেড়ে নেয়। উন্নয়ন চাই, কিন্তু এমন নয় যা আমাদের শ্রম অস্বীকার করে।

 

এই আন্দোলন শুধু পাকিস্তানের কৃষকদের নয় গ্লোবাল দক্ষিণের বহু ভূমিহীন মানুষের সংগ্রামের প্রতিধ্বনি হয়ে উঠেছে। কৃষকরা ঘোষণা দিয়েছেন: “জমি না হলে মৃত্যু” এটি শুধুই প্রতিরোধের ভাষা নয়, এটি একটি নতুন পৃথিবীর কল্পনা।

ঢাকায় নিজ বাসা থেকে জামায়াত নেতার মরদেহ উদ্ধার

জমি না হলে মৃত্যু

পাকিস্তানে সামরিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে কৃষক বিদ্রোহ

আপডেট সময় ১০:৪৬:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ জুন ২০২৫

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত ‘Green Pakistan Initiative’ (সবুজ পাকিস্তান উদ্যোগ)-এর বিরুদ্ধে কৃষকদের প্রতিরোধ আজ নতুন মাত্রা পেয়েছে। জমি রক্ষার দাবিতে হাজারো কৃষক আবারও রাস্তায় নেমে এসেছেন। এই আন্দোলন এখন কেবল জমির অধিকার নয়, বরং মর্যাদা, সার্বভৌমত্ব ও কৃষক নেতৃত্বাধীন ভবিষ্যতের সংগ্রামে রূপ নিয়েছে।

 

সামরিক বাহিনী এবং রাষ্ট্রের যৌথ মালিকানাধীন প্রকল্পের আওতায় হাজার হাজার একর কৃষিজমি কর্পোরেট ব্যবস্থায় তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অথচ এসব জমিতে কয়েক প্রজন্ম ধরে কৃষকরা চাষাবাদ করে আসছেন। এখন তাঁদের অবৈধ দখলদার বলা হচ্ছে এবং উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হচ্ছে।

 

স্থানীয় কৃষক সংগঠন Anjuman Mazareen Punjab (AMP) জানায়, এই প্রকল্পের নামে সেনাবাহিনী বলপ্রয়োগের মাধ্যমে জমি দখল করছে, পুলিশ গ্রেপ্তার চালাচ্ছে, এমনকি ক্ষেতের ফসল পর্যন্ত ধ্বংস করছে। আন্দোলনকারীদের দাবি এই ‘উন্নয়ন’ প্রকল্প আসলে সামরিক পুঁজিবাদের রূপ। এর মাধ্যমে কর্পোরেট কৃষিকাজ, একজাতি চাষ, রাসায়নিক সার ও পানির উপর নির্ভরশীল একটি পরিবেশ বিধ্বংসী ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

 

AMP-এর এক নেতার ভাষায়, আমাদের কাছে অস্ত্র নেই, ক্ষমতা নেই, কিন্তু আছে মাটি আর ইতিহাস। জমিই আমাদের পরিচয়।

 

প্রতিরোধ দমন করতে রাষ্ট্র নানা দমননীতি গ্রহণ করেছে অভিযোগ রয়েছে, পুলিশি হয়রানি, গ্রেপ্তার, ভীতি প্রদর্শন এবং মিডিয়ায় কৃষকদের ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।

 

এদিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে কৃষকদের এই সংগ্রাম বেশ কিছু বামপন্থী ও পরিবেশবাদী সংগঠনের সমর্থন পেয়েছে। ভারত, ফিলিপাইন, ল্যাটিন আমেরিকা, ও আফ্রিকার বিভিন্ন কৃষক সংগঠন এর সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছে।

 

AMP বলছে, আমরা আধুনিকতা চাই, কিন্তু এমন আধুনিকতা নয় যা আমাদের মাটি কেড়ে নেয়। উন্নয়ন চাই, কিন্তু এমন নয় যা আমাদের শ্রম অস্বীকার করে।

 

এই আন্দোলন শুধু পাকিস্তানের কৃষকদের নয় গ্লোবাল দক্ষিণের বহু ভূমিহীন মানুষের সংগ্রামের প্রতিধ্বনি হয়ে উঠেছে। কৃষকরা ঘোষণা দিয়েছেন: “জমি না হলে মৃত্যু” এটি শুধুই প্রতিরোধের ভাষা নয়, এটি একটি নতুন পৃথিবীর কল্পনা।